You can Get All Latest News of Bangladesh From Here...
Also you can Know the top News of Bangladeshi media From Here.....!!
So, stay with us for up-to-date News of BD...!!!
Date: 04-12-2013 (Breaking News)
Date: 03-12-2013 (Breaking News)
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো
Also you can Know the top News of Bangladeshi media From Here.....!!
So, stay with us for up-to-date News of BD...!!!
Date: 04-12-2013 (Breaking News)
বৃহস্পতিবারের মধ্যে দাবি মেনে নেয়ার আল্টিমেটাম বিএনপির
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে সরকার দাবি না মানলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার ১৩১ ঘণ্টার রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচির পঞ্চম দিনে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ওই ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে এক তরফা নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করে বিরোধী দলের দাবি মেনে নিন। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হবো। উল্লেখ্য, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে এবং ১৮ দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার, আটক ও হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে শনিবার সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। তবে সোমবার আরো ৫৯ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি বাড়ানো হয়। মোট ১৩১ ঘণ্টার এই অবরোধ কর্মসূচি চলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ।আলোচনায় জরুরি অবস্থা, সেনা মোতায়েন
জাতীয় পার্টির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিব্রত- হতাশ সরকার।
নির্বাচন নিয়ে মহা ভাবনায় নেতারা।
যদিও সংবিধানের বাধ্যবাধকতার কথা বলে সরকার এখনও নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সেনা মোতায়েন ও বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারির চিন্তাও রয়েছে।
সম্ভাব্য এসব ব্যবস্থা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানদের প্রধানমন্ত্রী আলোচনাও করেছেন।
গতকাল রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে আজ বিকালে দলের কার্য নির্বাহী সংসদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এ বৈঠকে সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
একইসঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন করতে হলে সম্ভাব্য করণীয় নিয়েও দলের নেতাদের পরামর্শ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে তার দুর করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এর মধ্যে দুটি বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এরশাদের সঙ্গে নেপথ্যে যোগাযোগ চলছে।
তবে গতকাল রাত পর্যন্ত যোগাযোগ করেও তার সঙ্গে সরকারি দলের কারও যোগাযোগ হয়নি।
এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন সাড়া না পাওয়ায় সরকার ঘনিষ্ট দুই নেতাকে ডেকে পাঠানো হয় গণভবনে।
বলা হচ্ছে ওই দুই নেতার দুতিয়ালিতেই এরশাদ নির্বাচনকালীন সরকারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে রাতে গণভবনে বৈঠকের পর ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়া উদ্দিন বাবলুর সঙ্গে কোনভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি।
বৈঠকের বিষয়ে তারা গণমাধ্যমে কোন বক্তব্য দেননি।
যদিও আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছে, বৈঠকে ওই দুই নেতা নির্বাচনে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এছাড়া দ্বিতীয় বিকল্প
হিসেবে বিরোধী দলের আন্দোলন ও কর্মসূচি দমনে আরও কঠোরতা অবলম্বন করা হতে পারে।
এক্ষেত্রে দলীয়ভাবে নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশনা আসতে পারে।
এদিকে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে সম্ভাব্য বিশেষ পরিস্থিতির আগাম তথ্য পেয়েই এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এরশাদের সিদ্ধান্ত বদলের নেপথ্যে
তিন কারণে নির্বাচন বর্জন করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
একটি বিশেষ পক্ষের নির্দেশনা, শক্তিধর একটি দেশের সর্বশেষ বার্তা এবং ১৮ দলীয় জোটের প্রতিরোধের ভয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
যদিও গতকাল জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেছেন, জাতির কাছে আমি তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।
এককভাবে নির্বাচন করবো, কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবো না এবং সব দল অংশ না নিলে নির্বাচনে যাবো না।
আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি।
তবে, এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক ভবন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটি বিশেষ পক্ষের প্রতিনিধিরা এরশাদের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।
তারা এরশাদকে বলেন, বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
গতকাল সকালে আঞ্চলিক শক্তিধর একটি দেশের পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা পান এরশাদ।
তার এক সপ্তাহ আগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ভারত সফর করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে কাদের সিদ্দিকীও একটি বার্তা পেয়েছেন- যা দূত মারফত এরশাদ অবহিত হন।
এ ছাড়া প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রতিরোধের মুখে পড়েন।
বিভিন্ন স্থানে হামলা ও আক্রমণের মুখে পড়েন।
এতে এরশাদ তার প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও বিচলিত হয়ে পড়েন।
এর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় দৃশ্যপট।
আর সোমবার রাত থেকে একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এরশাদের পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে।
অবশ্য এর দু’দিন আগেই মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন এরশাদ।
প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ওয়েট ফর মাই সিগন্যাল।
তাই বিষয়টি দলের অন্য কোন নেতার সঙ্গে শেয়ার করেননি জাপা চেয়ারম্যান।
এ কারণে এরশাদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনেও গতকাল দেখা যায়নি কোন নেতাকে।
রিজভীর রিমান্ড আবেদন নাকচ
বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদের বিরুদ্ধে শাহবাগে গাড়িতে আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মামলায় রিমান্ড আবেদন এবং আসামিপক্ষের করা জামিন আবেদন উভয়ই না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একই আদেশে তাকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের
অনুমতি দেয়া হয়েছে।
বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এমএ সালাম উভয় আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে সকাল সাড়ে দশটার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রিজভীকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।
গত শনিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আশিকুর রহমান মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় বুধবার রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
রাজধানীর শাহবাগে মিরপুর-সদরঘাট রোডে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এমএ জলিল এ দিন আসামিকে ১০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন।
এছাড়া, এ দিন মতিঝিল থানার আরও দুটি মামলায় রিজভীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২০ দিন রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
এ মামলা দুটিতে আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ মামলায় রিজভীর সঙ্গেহ আটক অপর বিএনপি নেতা বেলাল আহমেদকেও গ্রেপ্তার করে ২০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।
গত ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় শিশুপার্ক এলাকায় সদরঘাট থেকে মিরপুরগামী বিহঙ্গ পরিবহনের
একটি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় ১৯ যাত্রী গুরুতর আহত হন।
আগুনে পুড়ে গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েক ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
এঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ ১৮ দলের কতিপয় নেতাকর্মীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উস্কানি,পরিকল্পনা, যড়যন্ত্র, সহায়তা, মদদ ও অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটি করেছেন শাহবাগ থানার উপ- পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা
(মামলা নং ৫৮/তাং- ২৮-১১-২০১৩)।
এ মামলার অপর আসামিরা হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির সহ- সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম, মহানগর নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, যুগ্মসম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মহিদুল ইসলাম হীরু, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, ছাত্রদল ঢাকা মহানগর (উত্তর) সভাপতি হাসান মামুন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রওশন, শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
গত ২৯ নভেম্বর রাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কমান্ডো স্টাইলের এক অভিযান চালিয়ে রিজভী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদকে আটক করে নিয়ে যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
Date: 03-12-2013 (Breaking News)
নির্বাচনে যাচ্ছেন না এরশাদ
নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন,
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে পার্টির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তার এই ঘোষণা কেবল তার ‘ডিগবাজি’ চরিত্রেরই প্রকাশ ঘটায়নি,
আওয়ামী লীগকেও বড় ধরনের সংকটে ফেলে দিয়েছে।
তার এই ঘোষণা একতরফা নির্বাচনটিকে আরো প্রকট করে তুলল।
তিনি বলেন, ‘সব দল নির্বাচনে অংশ
না নিলে জাতীয় পার্টি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না।’ গত সোমবার ছিলো মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন।
জাতীয় পার্টির নেতারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র তুলে নেব।
আর তুলে নিয়েই আমি প্রমাণ করবো আমি প্রতিশ্র“তি রক্ষা করেছি।’
এরশাদ বলেন, ‘আমি পূর্বেই বলেছিলাম সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমি নির্বাচনে যাব না।
এখন পরিবেশ নেই বলে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন আমি সকালে এক কথা বলি, বিকেলে এক কথা বলি।
কিন্তু কেন বলি আপনাদের সেটা বুঝতে হবে।
আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে।’
মন্ত্রিসভায় জাপার নেতাদের অংশ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি তারা মন্ত্রিসভা থেকে চলে আসবেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্রঃ দৈনিক সরেজমিনএরশাদ সাহেব দেরিতে নিজের ভুল বুঝলেন: কাজী জাফর
নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ
এরশাদ দেরিতে হলেও নিজের ভুল বুঝেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটি সদ্য বহিষ্কৃত নেতা কাজী জাফর আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেব নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রমাণ করলেন আমি সঠিক পথেই ছিলাম।’
মঙ্গলবার তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে সকালে রাজধানীর বনানীতে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, তিনি নির্বাচনে না যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা রাখতেই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এসময় তিনি দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র তুলে নেয়ার অনুরোধ জানান।
কাজী জাফর আহমেদ বলেন, ‘নির্দলীয় সরকারের অধীন ছাড়া দেশে কোনো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।
জাতীয় পার্টির এ ধরনের ভুল করতে পারে না।
দলের চেয়ারম্যান দেরিতে হলেও তার ভুল বুঝতে পেরেছেন।
এজন্য তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’
সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলেছেন।
এসময় খালেদা জিয়া এরশাদকে নির্বাচন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
এরশাদ যদি ১৮ দলীয় জোটে নাও আসেন, তাহলে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও অনুরোধ করেন বিএনপি নেত্রী।
দুজনের মধ্যে ফোনালাপের পর আকিস্মিক এ সংবাদ সম্মেলন ডাকার পর থেকে এনিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ এ কৌতূহলের যবনিকাপাত করলেন।
সূত্রঃ দৈনিক সরেজমিনরাস্তায় নামলেন ব্যবসায়ীরা !
দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবিতে এবার রাস্তায় নামলেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা।
দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে সহিংসতা বন্ধ এবং স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের পোশাক কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায়
জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে পোশাক কারখানার মালিকদের সমিতি বিজিএমইএর কার্যালয়ের নুরুল কাদির মিলনায়তনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পোশাকশিল্পে নাশকতা নিয়ে এক মতবিনিময় সভা হয়।
এ সময় উপস্থিত মালিকেরা নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও স্ট্যান্ডার্ড কারখানার ঘটনায় নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান।
তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।
আমদানি- রপ্তানি না হওয়ায় দেশের অর্থনীতি নাজুক অবস্থায়।
এ কারণে দেশের মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠিত এ সভায় বিজিএমইএ
ছাড়াও নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও টেক্সটাইল মিলমালিকদের সংগঠন বিটিএমএর
সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিচার চাইতে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে স্মারকলিপি দিতে যাবেন উপস্থিত মালিকেরা।
সভা শেষে পাঁচটা ৪২ মিনিটে বিজিএমইএ ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দিতে মিছিল করে গণভবনের উদ্দেশে রওনা দেন মালিকেরা।
এ সময় মালিকেরা ‘স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস পুড়ল কেন জবাব চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন।
মিছিলে ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আবদুস সালাম মুর্শেদী, বর্তমান সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম, এস এম মান্নান, বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত
সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন, স্ট্যান্ডার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেনসহ দুই শতাধিক পোশাক কারখানার মালিক।
মিছিল সন্ধ্যা ছয়টা চার মিনিটে ফার্মগেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের কয়েকজন সদস্য বাধা দেন।
মালিকদের সঙ্গে পুলিশের বাগিবতণ্ডা হয়।
পুলিশ বিজিএমইএর সভাপতিকে স্মারকলিপিসহ একটি প্রতিনিধিদলকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যেতে অনুরোধ করে।
উত্তেজিত মালিকেরা এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে সামনে এগোতে থা তবে ফার্মগেটের কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ফটকের সামনে পুলিশ আবার মিছিলের গতি রোধ করে।
পরে আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গাড়িতে করে গণভবনে যায়।
আর বাকি মালিকেরা বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে স্মারকলিপি দিতে গুলশান কার্যালয়ে যান।
কিন্তু খালেদা জিয়া এ সময় কার্যালয়ে ছিলেন না।
বিজিএমইএর নেতারা বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদের কাছে স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে সাবিহউদ্দিন
বিজিএমইএর নেতাদের জানান, তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনকে স্মারকলিপি পৌঁছে দেবেন এবং দাবি-দাওয়ার বিষয়টি অবহিত করবেন।
মতবিনিময় সভা: মতবিনিময় সভায় উপস্থিত মালিকেরা স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়াতে সব রকমের সহযোগিতা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
বিজিএমইএকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে কয়েকজন মালিক বক্তব্য দেন।
গোলাম মোস্তফা নামের একজন পোশাক ব্যবসায়ী দুই নেত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘দেশ চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
সত্যিকারের মা হয়ে থাকলে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বন্ধ করুন।’
আরেক ব্যবসায়ী জাহানারা আক্তার
বলেন, ‘দুই দল দেশকে নিয়ে খেলা শুরু করেছে।
কিন্তু আমাদের পরিবারে সব মিলিয়ে পাঁচ কোটি লোক আছে।
আমাদের শক্তিও কম না।
আমরা রাস্তায় নামলে দুই নেত্রী কোথায় ভেসে যাবেন, খুঁজেও পাওয়া যাবে না।’
মিতালী ফ্যাশনের মালিক সৈয়দ আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
আমরা বন্দরে পণ্য পাঠাতে পারছি না।’
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী
বলেন, ‘দুই দল দেশকে দিনে দিনে যে জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে যে দেশের জন্য নয়, তারা নিজেদের স্বার্থের জন্যই রাজনীতি করে।’
আত্মঘাতী রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘সহিংস রাজনীতি বন্ধ না করলে দেশের অর্থনীতি শেষ হয়ে যাবে।
পোশাকশিল্পের অনেক ক্রয়াদেশ ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে চলে যাচ্ছে।’
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি সবুর খান বলেন, স্ট্যান্ডার্ডকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
আতিকুল ইসলাম বলেন, স্ট্যান্ডার্ডের ঘটনায় কেবল এক হাজার ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়নি।
দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সভার শুরুতে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘অবরোধের মধ্যে পুলিশি পাহারায় পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
রোববার রাতে ৬৫টি ট্রাক নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: রাত সোয়া নয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে গণভবন থেকে বেরিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম জানান, হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পোশাক কারখানার নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আর কারখানায় সহিংস ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে পোশাক কারখানাগুলোকে কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই) ঘোষণা করার দাবি জানান কারখানার মালিকেরা।
আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি করেন তাঁরা।
বিজিএমইএর সভাপতি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি তো হরতাল, অবরোধ দেইনি।
যিনি দিয়েছেন, ওনার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন।’
সম্প্রতি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের পোশাক কারখানাটি দু-এক দিনের মধ্যে পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সন্ধ্যা ছয়টা ৪২ মিনিটে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল গণভবনে প্রবেশ করে।
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলোএকতরফা নির্বাচনের পথেই সরকার
প্রধান বিরোধী জোট আন্দোলনে।
টানা অবরোধ কর্মসূচির কারণে সারা দেশের জনজীবন প্রায় অচল।
রাজনৈতিক সহিংসতায় মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিদিনই।
বাস- ট্রেনসহ যানবাহনে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে।
দেশের প্রত্যেক নাগরিক নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
এ রকম ভীতিকর পরিস্থিতিতে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
প্রধান বিরোধী দলবিহীন এই নির্বাচন মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার আরেকটি ধাপ অতিক্রম করল।
এরই মধ্যে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছয়জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।
তাঁরা হলেন:
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান
আলমগীর (চাঁদপুর-১),
জাতীয় সংসদের
চিফ হুইপ মো. আব্দুস শহীদ
(মৌলভীবাজার-৪),
রাষ্ট্রপতির ছেলে রেজওয়ান আহাম্মেদ তৌফিক
(কিশোরগঞ্জ-৪),
মানিকগঞ্জ-২ থেকে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম,
টাঙ্গাইল-৩ থেকে আমানুর রহমান খান
এবং লালমনিরহাট-২ আসন থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান
নুরুজ্জামান আহাম্মেদ।
তাঁদের বিপরীতে আর কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি বলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান।
দেশে এর আগে ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালে এ ধরনের একতরফা নির্বাচন হলেও তার পরিণতি ভালো হয়নি।
’৮৮-এর নির্বাচনের দুই বছরের মধ্যে আন্দোলনের মুখে সেই সরকারের পতন ঘটে।
আর ’৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেড় মাসও টেকেনি।
এবারও সে রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ।
গতকাল ছিল
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।
এ দিনে সারা দেশে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জাতীয় পার্টিসহ (জেপি) ১৫টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩০০ আসনে এক হাজার ১০৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলকারী অন্য দলগুলো হচ্ছে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), তরীকত ফেডারেশন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), নবগঠিত
আলোচিত-সমালোচিত বিএনএফ।
সরকারের মিত্র জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও ব্যক্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানালেও নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত তা আমলে নেয়নি।
এর ফলে বর্তমান তফসিলে বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আর সুযোগ থাকল না।
তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) গত রাতে সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা হলে তফসিল বাতিলসহ সবই সম্ভব।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ব্যাপারে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে নির্বাচন কমিশন বর্তমান তফসিল বাতিল করে নতুন তফসিল ঘোষণা করতে পারে।
কারণ, তফসিল তো নির্বাচনের জন্য।
নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে নতুন তফসিল ঘোষণা করতে কোনো সমস্যা হবে না।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে নবম সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল বাতিল করা হয়েছিল ‘জেনারেল
ক্লজেস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী।
কারণ, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) তফসিল পরিবর্তনের কোনো বিধান
নেই।
এবার সমঝোতার লক্ষ্যে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ফলপ্রসূ সংলাপ একেবারেই সুদূরপরাহত।
দুই দলের সাধারণ সম্পাদক ও মহাসচিব পর্যায়েও আলোচনার কোনো পরিবেশ এখন আর নেই।
সরকারি দল এখন নির্বাচনী ময়দানে।
বিরোধী দল আন্দোলনে এবং তাদের সবপর্যায়ের নেতারা আত্মগোপনে।
এই অবস্থায় গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে অনেকটা নিভৃতে।
মনোনয়নপত্র দাখিল করতে যাওয়ার পথে একাধিক প্রার্থী বিরোধী দলের হামলার শিকার হয়েছেন।
অবরোধের কারণে কয়েকজন প্রার্থীকে হেলিকপ্টারে করেও মনোনয়নপত্র দাখিল করতে যেতে হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
নির্বাচন একতরফা হওয়া সত্ত্বেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে ব্যাপক।
বিশেষ করে বিলবোর্ড স্থাপন, ফেস্টুন টাঙানো প্রভৃতি ক্ষেত্রে।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সরকারদলীয় বেশ কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে সরকারি দল অস্বস্তিতে আছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮- দলীয় জোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে আগে থেকেই।
আন্দোলনরত বিরোধী দল তাদের চলমান অবরোধ কর্মসূচি আরও ৫৯ ঘণ্টা বাড়িয়ে আগামী বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করেছে।
বিদ্যমান তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ ডিসেম্বর।
ভোট গ্রহণ ৫ জানুয়ারি। সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো
নাশকতা এড়ানোর যথেষ্ট চেষ্টা নেই রেলওয়ের !
রেলওয়েতে তিন ধরনের স্বীকৃত নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থা থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর নেই।
ফলে নাশকতার শিকার হয়ে দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জীবনের ঝুঁকিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি (জরুরি) শাটল, ইমার্জেন্সি ট্রলি ও ইমার্জেন্সি টহলব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ম।
এই তিনটি ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনগুলোকে নাশকতার হাত থেকে রক্ষা করা অনেকটাই সম্ভব বলে মনে করেন রেলের কর্মকর্তারা।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে মানবতা- বিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর
ফাঁসির রায়ের পর থেকেই মূলত নাশকতার শুরু।
১৮-দলীয় জোটের দুই দফা অবরোধ কর্মসূচিতে তা ব্যাপকতা পেয়েছে।
কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে রেল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত জরুরি তিন ব্যবস্থা কার্যকর করেনি রেলের প্রকৌশল বিভাগ।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি থেকে নাশকতা শুরুর পর এ বিষয়ে প্রকৌশল দপ্তরের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
তাঁদের তৎপরতা কেবল দিনের বেলায় সীমাবদ্ধ।
অথচ সব বড় দুর্ঘটনা ঘটছে রাতের বেলায়।
দুর্বৃত্তরা রাতের দিকে ফিশপ্লেট খুলে, স্লিপার উপড়ে ফেলে।
এটা বিবেচনায় নিয়ে প্রকৌশল দপ্তর তিনটি পদ্ধতির কোনোটি যদি কার্যকর রাখত, তাহলে রেলের সম্পদ এভাবে নষ্ট হতো না।’
রেলওয়ে সূত্র জনায়, অবরোধে নাশকতা বৃদ্ধির পর কর্তৃপক্ষ সারা দেশে রেলপথ ও রেল স্থাপনার মধ্যে ৬৩২টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে।
এসব স্থানে চারজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
কিন্তু তাতে কার্যকর ফল আসেনি।
এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ ট্রেনের গতি কমিয়ে প্রাণহানি হ্রাস ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ নেয়।
এতে সারা দেশে ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়ে। আয়ও নেমে আসে অর্ধেকে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নিয়ম আছে স্পর্শকাতর সময় কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন গন্তব্যে ছাড়তে হলে তার আগে একটি কোচ লাগানো ইঞ্জিন যাত্রা করবে।
এটাই ইমার্জেন্সি শাটল।
এটি রেললাইন ঠিক ও নিরাপদ আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে করতে যাবে।
আর পেছনে যাবে যাত্রীবাহী বা মালবাহী ট্র ফলে রেললাইনে যেকোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে ইমার্জেন্সি শাটল নিকটবর্তী স্টেশনমাস্টারের কাছে আগাম বার্তা পাঠাবে।
তখন যাত্রী বা মালবাহী ট্রেনটি পাশের কোনো স্টেশন বা উপযুক্ত স্থানে থামিয়ে রাখা হবে, রেললাইন ঠিক না হওয়া পর্যন্ত।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, লাকসাম, আখাউড়া, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ সব গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনেই এই ইমার্জেন্সি শাটলের ব্যবস্থা রয়েছে।
কিন্তু এসব যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় না বলে অভিযোগ আছে।
১৮-দলীয় জোটের দুই দফা অবরোধ কর্মসূচিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনের আশপাশেও বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
রেললাইন উপড়ে ফেলা, ফিশপ্লেট খুলে ফেলা, লাইনে আগুন দেওয়া, স্লিপার তুলে ফেলা, ট্রেন লক্ষ্য করে ককটেল- বোমা মারা ইত্যাদি নাশকতা গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে।
গতকাল পর্যন্ত নাশকতার ১৬৯টি ঘটনা ঘটেছে।
ইমার্জেন্সি শাটলের মতো ইমার্জেন্সি ট্রলিও রেললাইন নিরাপদ আছে কি না, তা যাত্রী বা মালবাহী ট্রেনের আগে যাত্রা করে কাছের স্টেশনে আগাম বার্তা পাঠাবে।
তৃতীয় ব্যবস্থা হলো জরুরি টহল।
প্রতি পাঁচ মাইল রেললাইনে একজন ম্যাটের নেতৃত্বে ১২ জনের একটি দল থাকে।
তাঁরা পথ ভাগ করে সার্বক্ষণিকভাবে হেঁটে রেললাইন পর্যবেক্ষণ করবেন।
যদি কোনো নাশকতার চিহ্ন দেখেন, তার তথ্য সংশ্লিষ্ট স্টেশনে জানাবেন এবং রেললাইন মেরামত করবেন।
দিনের বেলায় এ কাজটি হয় বলে জানা গেছে।
স্পর্শকাতর সময়ে তিনটি পদ্ধতিতে রেললাইন পর্যবেক্ষণ করার নিয়ম রয়েছে।
কিন্তু এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে রেলকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করার কোনো তথ্য প্রকৌশল দপ্তরের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
যদিও
সাম্প্রতিক সময়েই সাধারণ মানুষ নাশকতার ঘটনা দেখে নিজেরাই লাল কাপড় উড়িয়ে একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেনকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
রেল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ প্রশাসন এ ধরনের মানুষকে পুরস্কৃতও করেছে।
কিন্তু রেল তার নিজস্ব তিনটি নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে পা করছে না।
ইমার্জেন্সি শাটল, ইমার্জেন্সি ট্রলি ও ইমার্জেন্সি টহলব্যবস্থা কার্যকর করার দায়িত্ব রেলের প্রকৌশল দপ্তরের।
জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রেললাইনের একটি ফিশপ্লেট খুলতে ১০ মিনিট লাগে।
যাত্রীবাহী ট্রেনের আগে আমরা ইমার্জেন্সি শাটল বা ইমার্জেন্সি ট্রলি চালিয়ে নিতে পারি কিন্তু যাত্রীবাহী ট্রেন ওই পথ অতিক্রম করার পরও ফিশপ্লেট খুলে ফেলতে পারে নাশকতাকারীরা।
তখন কী হবে?’
রেললাইন উৎপাটনের কারণে মাস কয়েক আগে কুমিল্লায় চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ে।
তখন একটি তদন্ত কমিটি হয়েছিল।
ওই কমিটির প্রতিবেদনে নিরাপত্তামূলক এই ব্যবস্থা তিনটির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ইমার্জেন্সি টহলের জন্য ম্যাটের নেতৃত্বে ওয়েম্যানদের আমরা টর্চ ও ব্যাটারি এখনো সরবরাহ করিনি।
উচ্চপর্যায়ে নির্দেশনা পেলে সেটা আমরা করব।
তবে ইমার্জেন্সি টহল দেওয়ার জন্য আমাদের জনবল প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকের মতো আছে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রাফিক কর্মচারী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউ আগে এভাবে দেশের সম্পদ ধ্বংস করেনি।
কিন্তু চলামান রাজনৈতিক আন্দোলনে রেলকে লক্ষ্যস্থলে পরিণত করেছে নাশকতাকারীরা।
তার পরও এই তিনটি পদ্ধতি কার্যকর থাকলে নাশকতা এড়িয়ে রেলের সম্পদ অনেকাংশে নিরাপদ রাখা সম্ভব।’
জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মকবুল আহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইমার্জেন্সি শাটল চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে ফেনী পর্যন্ত মাঝেমধ্যে হচ্ছে।
ফেনীর পর এই ব্যবস্থা কার্যকর আছে কি না আমার জানা নেই।’
রাতে ইমার্জেন্সি ট্রলি করা বিপজ্জনক বলে জানান তিনি।
মকবুল আহাম্মদ বলেন, ‘রেলে নাশকতা ঠেকাতে পূর্বাঞ্চলের ১৭৭টি স্পর্শকাতর জায়গায় সোমবার থেকে চারজন করে আনসার নিয়োগ করা হয়েছে।
এতে ভালো ফল পাব বলে আশা করছি।
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো
দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৬তম, অগ্রগতি তাত্পর্যহীন: টিআই
বিশ্বের সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় এ বছর ১৬তম স্থান দখল করেছে বাংলাদেশ।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতি ধারণাসূচক ২০১৩ অনুযায়ী বাংলাদেশের এ নতুন অবস্থান।
গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৩তম।
টিআইয়ের জরিপে দুর্নীতি প্রতিরোধে বাংলাদেশের ‘তাত্পর্যহীন’ অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বনানীতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতিবিষয়ক বৈশ্বিক জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়।
এই প্রতিবেদন বিশ্বের ১৭৭টি দেশে এক যোগে প্রকাশ করা হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে বাগাড়ম্ব যতটুকু ছিল, দুর্নীতি দমনে কার্যকর দৃশ্যমান বিশ্বাসযোগ্য কার্যক্রম তেমন দেখা যায়নি।
জরিপ অনুযায়ী এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে আছে একটি দেশ।
তা হলো আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের স্কোর ২৭।
টিআই বলছে, ২০১৩ সালে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ সোমালিয়া, উত্তর কোরিয়া ও
আফগানিস্তান।
সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রয়েছে ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড।
এদের প্রত্যেকের স্কোর ৯১।
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো
No comments:
Post a Comment